অধ্যক্ষ এর বাণী

Photo দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপিঠ ঐতিহ্যবাহী সরকারি মাইকেল মধুসুদন মহাবিদ্যালয় । এম এম কলেজ হিসাবে এর সমধিক পরিচিতি । অবিভক্ত বাংলায় ১৯৪১ সালে ইন্টারমিডিয়েট কলেজ হিসাবে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। সুদীর্ঘ ৭৬ বছরের পথ পরিক্রমায় কলেজটিতে বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক (পাশ), ১৯ টি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান), ১৭ টি বিষয়ে স্নাতকোত্তর কোর্স চালু রয়েছে । মহান এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অতিক্রম করছে এর স্বর্ণযুগ । ২০১৬ এবং ২০১৭ সালে পরপর দুইবার জাতীয়বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ র‌্যাংকিয়ে এটি খুলনা বিভাগে শ্রেষ্ঠ কলেজের মর্যাদা অর্জন করেছে। স্মরণকালের ইতিহাসে প্রতিষ্ঠানটির ভৌত অবকাঠামোগত দৃশ্যমান উন্নয়ন, শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ও গুনগত শিক্ষা সুধীমহলে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে। গতবছর কলেজটির বর্তমান অধ্যক্ষ দুই বছরের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন । সার্বিক বিবেচনায় একই বছরের ২৫ শে জুন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কলেজকে “বিজয়” নামে একটি বাস উপহার দিয়েছেন । আমি দৃড়ভাবে বিশ্বাস করি শিক্ষক মন্ডলী , শিক্ষার্থীবৃন্দ , ও অভিভাবকবৃন্দের সুসম্ন্বয় ও সহযোগীতার বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে নিকট ভবিষ্যতে কলেজটি জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করবে । সরকারি এম এম কলেজের বিএনসিসি রোভার, রেঞ্জার , রেডক্রিসেন্টসহ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাঁধন ও আহবান স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে চলেছে । এছাড়া সাংস্কৃতিক সংগঠন বিবর্তন , উদীচী ও উচ্চারণ অত্যন্ত ইতিবাচক সক্রিয় রয়েছে । এম এম কলেজ ডিবেটিং সোসাইটি বিতর্ক প্রতিযোগীতায় সাফল্যের ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রেখেছে। কলেজটিতে ক্রীড়া প্রতিযোগীতা ও অন্যান্য সহপাঠ কার্যক্রম যথাযথ গুরুত্বের সাথে পরিচালিত হয় । এখানকার সার্বিক উন্নয়নে ছাত্রনেতৃবৃন্দও অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করে আসছে। ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের প্রিয় এ কলেজটির রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। এক কথায় বলা যায়, বুড়িভৈরব তার নাব্যতা হারালেও এককালের অসংখ্য পীর-আউলিয়া, কবি-সাহিত্যিক ও গুনীজনের স্মৃতিধন্য এ পূন্যভূমিতে বনানী ঘেরা এ মনোরম পরিবেশে কলেজটি আজও হাজারো ছাত্রছাত্রীর কলকাকলিতে মুখরিত । মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জ্ঞানভিত্তিক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে শিক্ষার গুনগত মানোন্নয়নে গৃহীত মাষ্টারপ্লান ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির পাঠকার্যক্রম তদারকির জন্য মনিটরিং সেল গঠিত হয়েছে যা অত্যন্ত কার্যকর ভুমিকায় রয়েছে। আধুনিক পর্যায়ের সাইবার সেন্টার ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম সচল রয়েছে। কলেজের ডাইনামিক ওয়েবসাইট সক্রিয় রয়েছে । জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও প্রাতঃসমাবেশ ছাত্র-ছাত্রীদের শৃংখলাবোধ ও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত করে । উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণিসহ সকল স্তরে শিক্ষার্থী অনুপস্থিতি রোধে ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে । উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণির শিক্ষার্থী অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরন করা হচ্ছে। একদল প্রাজ্ঞ, দক্ষ , সুযোগ্য নিবেদিত শিক্ষক কর্মকর্তা ও অসংখ্য কর্মচারীর নিরলস প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানের গৌরবময় ঐতিহ্য অক্ষুন্ন রাখা এবং শিক্ষার গুনগত মানোন্নয়নে কলেজ প্রশাসন নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের সার্বিক প্রয়াস ও ব্যবস্থাপনায় নতুন প্রজন্ম দেশপ্রেমে উদ্ধুদ্ধ হয়ে সৎ , যোগ্য, আত্মনির্ভরশীল ও সুনাগরিক হিসাবে গড়ে উঠবে- এই প্রত্যাশায় সকল শ্রেণির সকল শিক্ষার্থীকে স্বাগত জানাই । সকলের সর্বাঙ্গীন কল্যান হোক। পরম করুনাময় আমাদের সহায় হোন।